বুধবার , জানুয়ারী 17 2018
banglaen
Home / বিনোদন / আজ তাঁর জন্মদিন

আজ তাঁর জন্মদিন

অন্তঃসত্ত্বা আর্মেলিন ইনডেনবার্কেন ইতালির ফ্লোরেন্সের একটি জাদুঘরে লেওনার্দো দা ভিঞ্চির চিত্রকর্ম দেখছিলেন। ঠিক তখনই প্রথম আর্মেলিন পেটে সন্তানের নড়াচড়া টের পান। নিজের ভেতরে লালিত সত্তা লাথি মেরে জানান দিচ্ছে তার অস্তিত্বের। তখনই আর্মেলিন অনাগত সন্তানের নাম ‘লিওনার্দো’ রাখবেন বলে স্থির করেন। হলিউডের মহারথী নায়ক লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর নাম নিয়ে এ স্মৃতি মায়ের। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৭৪ সালের ১১ নভেম্বর তাঁর জন্ম। পুরো নাম লিওনার্দো উইলহিল্ম ডিক্যাপ্রিও। মা আর্মেলিন ইনডেনবার্কেন জার্মান এবং বাবা জর্জ ক্যাপ্রিও ইতালির নাগরিক।

‘সামটাইমস আই ওয়ান্ডার, উইল গড এভার ফরগিভ আস ফর হোয়াট উই হ্যাভ ডান টু ইচ আদার? দেন আই লুক অ্যারাউন্ড অ্যান্ড আই রিয়েলাইজ, গড লেফট দিস প্লেস আ লং টাইম অ্যাগো।’ ‘ব্লাড ডায়মন্ড’ ছবিতে ড্যানি আর্চার (ডিক্যাপ্রিও) এভাবেই ম্যাডি বাওয়েনকে (জেনিফার কনেলি) অতীতের স্মৃতি বর্ণনা করেন।

ছবির মতো বাস্তবের ক্যাপ্রিওর শৈশবকালীন স্মৃতি সুখকর ছিল না। ক্যাপ্রিওর জন্মের বছর খানেক পর বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়। ছোটবেলায় তিনি বেশির ভাগ সময় মায়ের সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসে থেকেছেন। শৈশব নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ডিক্যাপ্রিও বলেন, ‘ওই সময়টা ছিল ভয়াবহ অভিজ্ঞতার, লস অ্যাঞ্জেলেসের যে স্থানে আমি ছিলাম, সেটা ছিল মাদক ও পতিতাবৃত্তিতে বেষ্টিত।’

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি ঘটে ডিক্যাপ্রিওর। সেই বয়সেই টেলিভিশনের ধারাবাহিকের সেটে ভাঙচুরের জন্য অভিনয় থেকে বাদ পড়েন। এরপর আবার ১৪ বছর বয়সে পর্দায় আসেন টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে।

ডিক্যাপ্রিওর চলচ্চিত্রে অভিষেক ১৯৯১ সালে ক্রিস্টিন পিটারসনের ‘ক্রিটারস থ্রি’ দিয়ে। তবে ১৯৯২ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম বড় সুযোগ আসে, যখন পরিচালক রবার্ট ডি নিরো ‘দিজ বয়েজ লাইফ’ ছবির জন্য ৪০০ শিশুশিল্পী থেকে ক্যাপ্রিওকে বাছাই করেন। ক্যারিয়ারের পরের বাঁকটি ১৯৯৭ সালে। ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্রে জাহাজটি ডুবে যায়, তবে তাতে জ্যাকের চরিত্রে অভিনয় করে ডিক্যাপ্রিও কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রেমিক পুরুষ হিসেবে জায়গা করে নেন।

এরপর নিজেকে ভাঙার পালা। ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’, ‘গ্যাংস অব নিউইয়র্ক’ ছবিতে অভিনয়ের পর রোমান্টিক অভিনেতা থেকে ডিক্যাপ্রিও বনে গেলেন অ্যাকশন হিরোতে। ‘দ্য অ্যাভিয়েটর’, ‘দ্য ডির্পাটেড’, ‘শাটার আইল্যান্ড’ ছবিগুলো ধীরে ধীরে ডিক্যাপ্রিওকে অন্য মাত্রা দেয়। ৩৬ বছর বয়সে ভক্তদের জন্য ডিক্যাপ্রিওর উপহার ‘ইনসেপশন’।

৪০ বসন্ত শেষে ২০১৫ সালে ‘দ্য রেভন্যান্ট’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হলিউডে আবারও আলোচনায় আসেন ডিক্যাপ্রিও। ২০১৬ সালে ষষ্ঠবারের মতো অস্কারের জন্য মনোনীত হন লিও। লাখো ভক্তকে সাক্ষী রেখে অবশেষে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর হাতে ওঠে অস্কার।

সুদর্শন ডিক্যাপ্রিও কেবল অভিনেতা, লেখক ও প্রযোজক নন; তিনি একজন শক্তিশালী পরিবেশবাদীও। অভিনয়ের বাইরে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন ক্যাপ্রিও। আজ ১১ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন। তাঁকে শুভেচ্ছা।

About admin

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।